শিরোনাম:
নবীনগরে শিল্পপতি রিপন মুন্সির স্বপ্নের ফার্মে ঘুরে দাঁড়ালো ৫০০ অসহায় পরিবার নবীনগরে বিএনপির অপপ্রচার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্পৃতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত। নবীনগরে ব্যারিষ্টার জাকির আহাম্মদ কলেজে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেবে রাশিয়া বিয়ের পরদিন মেঘনায় ভাসছিল যুবকের মরদেহ প্রেমের টানে এবার জয়পুরহাটে শ্রীলঙ্কান যুবক ইডেনের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীরা কৃষিমন্ত্রীর বাসায় এবার গোপনে নয়, আয়োজন করে বিয়ে করবেন শাকিব ৩ স্ত্রী থাকার পরও কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় অপহরণ ইভ্যালির সার্ভার খুলছে শিগগিরই, অনলাইনে চালু হবে কেনাবেচা
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৩১ অপরাহ্ন

সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ১০টি বিয়ে করেন মামুন

প্রতিনিধির / ১৩০ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ১০টি বিয়ে করেন মামুন
সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ১০টি বিয়ে করেন মামুন

গ্রিল ওয়ার্কশপের কর্মচারী মো. মমিনুল ইসলাম ওরফে মামুন ইসলাম (৩০) নিজেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় দিতেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। কখনো  আবার নিজেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপ-সচিব, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা আবার কখনো ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে সম্পর্ক করতেন বিভিন্ন বয়সী নারীর সঙ্গে। পরে এসব নারীদের বিয়ে করে, কিছু দিন একসঙ্গে থাকতেন। সুযোগ বুঝে গোপনে ধারণ করতেন একান্ত মুহূর্তের ভিডিও। এরপর সেসব ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করতেন অর্থ।

অন্তত ১০টি বিয়ে করা মামুন বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে বদলি বাণিজ্য বা মন্ত্রীর বিদেশ সফরে সঙ্গী করার প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে অনেকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পল্টন থানায় এক ভুক্তভোগী নারীর পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুরের খানসামা থানাধীন আমতলী বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার মোবাইলে ৫০ এর অধিক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথোপকথন ও অসংখ্য আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) এস এম আশরাফুল আলম।

এস এম আশরাফুল আলম বলেন, প্রতারক মামুন ইসলাম পেশায় গ্রিল ওয়ার্কশপের কর্মচারী। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী উপ-সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তা আবার কখনো ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতেন। নিজেকে উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ১০টি বিয়ে করেছেন তিনি।

মামুনের টার্গেট বিয়ের পর ব্ল্যাকমেলিং

এস এম আশরাফুল আলম বলেন, মামুনের বেশি আগ্রহ বিভিন্ন বয়সী নারীর প্রতি। সরকারি কর্মকর্তা সেজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ছবি ব্যবহার করে মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করতেন। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। যদি কেউ তার বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া না দিতেন, তাহলে মামুন আত্মহত্যা করবে বলে ব্ল্যাকমেল করে রাজি করাতেন। পরে বিয়ের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

যেভাবে ধরা পড়লেন প্রতারক মামুন

সিআইডি জানায়, এক নারীর সঙ্গে প্রতারক মামুনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সময় মামুন নিজেকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন। তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হলেও মামুন কখনো ভিকটিমের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতেন না।

বিভিন্ন সরকারি কাজে খুবই ব্যস্ত আছে অথবা তার ছুটি হচ্ছে না এ রকম অজুহাতে সরাসরি বিয়ে করতে আসতে পারছে না বলে জানান। একপর্যায়ে মামুন ভুক্তভোগীর নামে কাজী অফিসের সিলমোহরযুক্ত ভুয়া নিকাহনামা প্রস্তুত করে নির্ধারিত ঠিকানায় কুরিয়ার করে পাঠান। ওই নারীকে কাবিননামায় স্বাক্ষর করে আবার মামুনের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে বলে।

ভুক্তভোগী নারী সরল বিশ্বাসে মামুনের কথামতো কাজ করার কিছুদিন পর মামুন তার বাসায় যান। এরপর ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে করে কিছুদিন একসঙ্গে বসবাস করেন। ভুয়া বিয়ের পর প্রতারক মামুন নারীর আপত্তিকর ও অশালীন অবস্থায় ভিডিও কলে আসতে বলতেন। আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও কলে কথোপকথনের সময় ভিডিও কলের স্ক্রিন রেকর্ড করে সেই ভিডিওগুলো নিজ মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখেন মামুন।

পরে ভিডিওগুলো অনলাইনে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করতে থাকে। এভাবে সে ভিকটিমদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে। একপর্যায়ে ভিকটিম নারী প্রতারক মামুনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হয়ে ডিএমপির পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় মামুনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসএসপি এস এম আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তারের সময় মামুনের কাছ থেকে ৫টি নকল নিকাহনামা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বদলির ভুয়া অফিস আদেশের কপি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

Facebook Comments Box


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Recent Comments

No comments to show.